ঢাকা: লালমনিরহাট বিমানবন্দরকে দেশের এভিয়েশন শিল্পের কেন্দ্র বা হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, লালমনিরহাটকে এমআরও (রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার) শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে বোয়িং, এয়ারবাস ও সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (পিআইবি) বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বাটজা) আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আমরা লালমনিরহাট এয়ারপোর্টকে এভিয়েশন খাতে এমআরও—রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা বা সংস্কার ইন্ডাস্ট্রিজ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বোয়িং, এয়ারবাস ও সিঙ্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে আলোচনা করছি। আশা করি খুব শিগগিরই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে এভিয়েশন খাতে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা তৈরি হবে। এমনকি, লালমনিরহাটকে ঘিরে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের সমালোচনা অবশ্যই করবেন, ভুল ধরিয়ে দেবেন; সেই সঙ্গে বিমানের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরবেন।
তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকার টার্মিনালটির বেহাল দশা রেখে গেছে। পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চান ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল খুলে দিতে। আমরাও সেটি নিয়ে জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।
তৃতীয় টার্মিনালের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আগের সরকারের প্রকল্প; কিন্তু বিদ্যমান টার্মিনালের সক্ষমতা কম হওয়ায় তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে এগোচ্ছি।
মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছি, সাবেক সরকার ব্যক্তি স্বার্থে মন্ত্রণালয়টিকে ভর্তুকির খাত হিসেবে ব্যবহার করেছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সমালোচনা অবশ্যই করবেন, ভুল ধরিয়ে দেবেন; পাশাপাশি বিমানের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরবেন।
মন্ত্রী জানান, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাইলট হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন একটি ফ্লাইং একাডেমি চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। বিমানবাহিনীর কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে এভিয়েশন একাডেমি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে গরিব ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাইলটসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে; পরে তারা চাকরি করে সেই খরচ ফেরত দেবেন। এ উদ্যোগে দেশে পাইলট সংকট সমাধানের পাশাপাশি বিদেশে চাকরির সুযোগও তৈরি হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রথম দিনের প্রশিক্ষক ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এটিসি বিভাগের সদস্য এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম এবং এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।