Monday 13 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাংলাদেশে আসছেন সৌদি আরবের যুবরাজ সালমান

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
১৩ জুলাই ২০২৬ ১১:৩১

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

ঢাকা সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। ঠিক কখন তিনি আসবেন সেই সময় নির্বাচন না হলেও এই সফরে খুলতে পারে সম্পর্কের নতুন দ্বার।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফরের ফলে বাংলাদেশের সামনে একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এটি দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতাগুলো আবার চালু করতে সাহায্য করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে। একই সঙ্গে তৈরি হবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। বাংলাদেশ এখন একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ যখন নতুন পথ খুঁজছে, এমন সময়ে এই সুযোগটি এলো।

বিজ্ঞাপন

বিগত এক দশকে বাংলাদেশের বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হওয়ার তীব্র আগ্রহ দেখিয়েছিল সৌদি আরব। তবে ঢাকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বেশ কয়েকটি বড় প্রস্তাব আটকে যায়। নীতির ধারাবাহিকতার অভাব ও দুর্বল সমন্বয়ের কারণেও এগুলো এগোয়নি। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক ও সাবেক কর্মকর্তারা এমন তথ্যই জানিয়েছেন।

রিয়াদ এখন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুবরাজের সফরের আগে বাংলাদেশের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। অতীতের মতো সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়, সে জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের একটি প্যাকেজ তৈরি করা দরকার।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে এই অগ্রগতির বিষয়টি সামনে আসে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেছেন রাষ্ট্রদূত। চিঠিতে যুবরাজ বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

বৈঠককালে রাষ্ট্রদূত সৌদি সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের মৌখিক আমন্ত্রণও জানান। তারেক রহমান সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, সৌদি প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ শিগগিরই ঢাকা সফর করতে চান। তাছাড়া বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখতে একটি সৌদি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও দ্রুত বাংলাদেশ সফরে আসবে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই সফরগুলোকে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। রিয়াদ এখন প্রথাগত ‘নিয়োগকর্তা-শ্রমিক’ সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়তে চায়।

সৌদি আরব দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিগত সাড়ে চার দশক ধরে লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মী সৌদি অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস।

মানুষে মানুষে এই শক্তিশালী বন্ধন থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। গত এক দশকে রিয়াদ বারবার বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো, বিমান চলাচল ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বেশিরভাগ প্রস্তাব আলোচনা বা সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর আর এগোয়নি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সৌদি আরবে পুনরায় কর্মী পাঠানো শুরু করে। এটি একটি বড় সাফল্য ছিল। তবে এই সম্পর্ককে বড় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রস্তাবিত সফর এই ঘাটতি দূর করার বড় সুযোগ।

সারাবাংলা/একে/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর