ঢাকা: সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রবল প্রভাবে আজ সকাল থেকেই দেশজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। বৃহস্পতিবার ( ৯ জুলাই ) সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ আগামী দুই দিন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে বলে এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথ্য দিয়ে জানান যে দেশের সবকটি বিভাগই এই ভারী বৃষ্টির আওতাভুক্ত ও ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এই প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে। ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তা ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে গণ্য করা হয়। চলমান এই সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। টানা এই বৃষ্টির কারণে দেশের দুটি প্রধান মহানগরী ও পাহাড়ি অঞ্চলে বিশেষ দুটি বিপদের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় সাময়িকভাবে তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। ফলে জনজীবন ও সাধারণ ট্রাফিক ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে এরই মধ্যেই পানিবন্দি হয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। অন্যদিকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। অনবরত বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার মাটি ধসে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও দেশের ২০টি অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এই অঞ্চলগুলো হলো রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের নদী অববাহিকা ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় বাতাসের গতিবেগ সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় মাছ ধরার নৌকা এবং ট্রলারগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং জানমালের ক্ষতি কমাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।