Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আ.লীগ আমলে তিন বাহিনীর বঞ্চিতদের কাছে ফের আবেদন চাইল সরকার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৯ জুলাই ২০২৬ ১৪:২৫ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২৬ ১৪:৪৪

নৌ, সেনা ও বিমানবাহিনী

ঢাকা: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে চাকরিকালে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পুনরায় আবেদন আহ্বান করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দিয়ে অবিলম্বে তা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চাকরিকালে বঞ্চনার শিকার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা আবেদন করার সুযোগ পাবেন। যারা আগে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদর দপ্তরের গঠিত পর্ষদ বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত কমিটির কাছে আবেদন জমা দেননি, তারা এবার নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। এর পাশাপাশি যাদের আগের আবেদনগুলো কোনো কারণে বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি, তারাও পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগ্রহী কর্মকর্তাদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদর দপ্তরে নিজেদের আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আবেদনগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই শেষে গঠিত কমিটিকে আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে হবে। দেড়শ কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর ও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।

এর আগে গত ১ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ ১৫০ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর ও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। সে সময়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া এই কর্মকর্তারা তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সব ধরনের আর্থিক সুবিধাও পাবেন।

নতুন করে প্রাপ্ত আবেদনগুলো নিখুঁতভাবে পর্যালোচনার জন্য সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে সভাপতি করে ৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কমিটিতে অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল, নৌবাহিনীর একজন রিয়ার অ্যাডমিরাল, বিমানবাহিনীর একজন এয়ার ভাইস মার্শাল, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। এছাড়াও সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এই কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, প্রয়োজন মনে করলে কমিটির সভাপতি চাইলে অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। এই কমিটির মূল কার্যপরিধি অনুযায়ী, তারা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদর দপ্তরে জমা হওয়া নতুন আবেদনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করবে। একই সঙ্গে বাহিনীর সদর দপ্তরের গঠিত পর্ষদ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত কমিটিতে জমা দেওয়া হলেও যেসব আবেদন আগে বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোও পুনরায় গুরুত্বের সাথে পরীক্ষা করা হবে। মানবিক বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা তৈরি করবে এই কমিটি। চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং তাদের দাখিল করা সব দালিলিক তথ্য ও নথি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

তবে প্রজ্ঞাপনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, কমিটি শুধুমাত্র ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের আবেদনগুলোই বিবেচনার জন্য গ্রহণ করবে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঞ্চনার শিকার সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সে সময় এক হাজারের বেশি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য আবেদন করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর