শিশুদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বাড়াতে স্কুলভিত্তিক বই পড়া কর্মসূচি শুরু করছে সরকার।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তথ্য অধিদফতরে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বই পড়ার সুযোগ করে দিতে বর্তমানে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাড়ির মাধ্যমে ৬৪ জেলার ৩৬৮টি উপজেলা ও থানার ৩ হাজার ২০০টি স্পটে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি সহায়তায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এ কাজটি করছে। মূলত এর পরিসর আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা স্কুল পর্যায়ের শিশুদের জন্য স্কুলে গিয়ে বই পড়ার কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক— উভয় পর্যায়েই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। এ বছরের বাকি কয়েক মাসে আমরা একটি পাইলট কর্মসূচি চালু করব। প্রতি উপজেলার কয়েকটি নির্বাচিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো শিশুরা বই পড়ছে কি না এবং বই পড়ার প্রভাব কী, অর্থাৎ তারা কতটুকু বিষয়বস্তু আত্মস্থ করতে পারছে, তা মূল্যায়ন করা। আগেও এ ধরনের মূল্যায়ন হতো, এখনও হবে। আমরা ফলাফল বুঝে তার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে দেশের সব স্কুলে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করতে চাই।’
ডা. জাহেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলছেন, আমরা যদি শিশুদের যত বেশি সৃজনশীল ও মননশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে পারি, সেটাই রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো। এটাকে আমি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বলতে চাই। আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেবে। তারা বই পড়বে, খেলাধুলা করবে, সংস্কৃতি চর্চা করবে।’
পাশাপাশি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সারা দেশের সব স্কুলে গান, আবৃত্তি, অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘ফুটবল প্রতিযোগিতা যেভাবে হয়েছে, ঠিক সেভাবেই এগুলো অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবং আমরা আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করবেন।’