বান্দরবান: টানা তিন দিনের দিনের ভারী বর্ষণে দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকালে সীমান্তবর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়িতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুটির নাম আলিয়া সোলতানা (৫)।
গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হয়ে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বন্যা এবং নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ না করেন সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, থানচির দুর্গম এলাকায় নাফাখুম জলপ্রপাতে ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইড আটকা পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধস হতে পারে ও নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহত ভারী বর্ষণে থানচিতে সাঙ্গু নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টিতে জেলা সদরের ব্রিগেড এলাকা,কালাঘাটা, বালাঘাটা, বনরূপা পাড়া ও সিদ্দিক নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। লামা ও আলীকদমে পাহাড়ি ঢল ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আলীকদমের প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে একটি বসতবাড়ির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিচু এলাকার অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করছেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘ প্রায় ১৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বান্দরবানে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, খুঁটি হেলে পড়ার পরপরই নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে তারা কাজ শুরু করেন।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় সড়কের ওপর মাটি ও পাথর ধসে পড়ার কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিভিন্ন সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।