ঢাকা: মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাশঁবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে নিম্নমানের খাদ্য বিতরণের অভিযোগ প্রকাশের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা শিক্ষা অফিস দ্রুত ঘটনাস্থলে তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে দেখা যায়, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম নিম্নমানের অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলনের নজরে আনে, ফলে তারা এক ঘণ্টার মধ্যেই ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়। বানরুটি ভালো ছিল বলে শিক্ষক, দফতরি, প্রতিবেশিরা এবং ৩য়, ৪র্থ, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা লিখিত ও মৌখিকভাবে জানায়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গার্ডিয়ান কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যই ছিল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা। বাশঁবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনায় সেই উদ্যোগের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য নিয়ে আপস করা হবে না। বাশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনাটি প্রমাণ করেছে যে, গার্ডিয়ান কমিটির কার্যকর তদারকির কারণেই ত্রুটিপূর্ণ ডিম বিতরণের আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে এড়ানো গেছে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নির্দেশনায় গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মায়েদের অংশগ্রহণে ৫ সদস্যবিশিষ্ট গার্ডিয়ান কমিটি গঠন করা হয়। স্কুল ফিডিং কার্যক্রমসহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করাই ছিল এ কমিটি গঠনের মূল উদ্দেশ্য।