ঢাকা: ভারতের নতুন হাইকমিশনারকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এতে বাংলাদেশের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হবে বলে তিনি মনে করেন না। বরং এটি দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বহন করে।
শনিবার (২৭ জুন) বিসিটিআই সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) আয়োজিত ৬ষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ কোর্স এবং ১ম টেলিভিশন অডিশন ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট নির্মাণ কোর্সের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি কোনো চাপের বিষয় দেখি না। বরং আমি এটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। ভারতের সরকার আগেই বলেছিল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে তারা আবার আগের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পৃক্ত হতে চায়। নতুন হাইকমিশনারকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া সেই উদ্যোগেরই বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি আরও বলেন, নতুন হাইকমিশনার শুধু পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত নন, তিনি ভারতের রাজনৈতিক ক্যাডারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে দুই দেশের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়ে ভারত আরও আন্তরিক ভূমিকা নেবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ যেকোনো দেশের সঙ্গে আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এ নীতির কোনো পরিবর্তন হবে না।’
আঞ্চলিক যোগাযোগ বা কানেক্টিভিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংযোগ বৃদ্ধি সব সময় ইতিবাচক। চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য করিডর বা সংযোগ প্রকল্প নিয়ে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সমীক্ষা হবে এবং প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে কতটা লাভজনক, তা যাচাই করা হবে।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপের দেশগুলো যেভাবে পারস্পরিক সংযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করেছে, তেমনি বাংলাদেশও যদি নিজের স্বার্থ সংরক্ষণ করে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির অংশ হতে পারে, তাহলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে। অতীতেও বিবিআইএনসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগের আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই যেকোনো ধরনের কানেক্টিভিটি প্রকল্পে বাংলাদেশ অংশ নেবে।’
এর আগে, অনুষ্ঠানে তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের হাতে সনদ তুলে দেন এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে বিসিটিআইয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (বিসিটিআই) প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।
এছাড়া আর বক্তব্য দেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিসরাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক বাছির জামাল, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ হিরুজ্জামান, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নিবার্হী লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত কামাল আকবর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র সম্পাদক সৈয়দ ফজলে হক, প্রেস কাউন্সিলের সচিব মো. আবদুস সবুর, মেন্টর নাজমুস সাকিব লাবিব, প্রশিক্ষনার্থী ফারাজনা হক দৃপ্তিসহ অন্যান্যরা।