Sunday 21 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যমুনার তীররক্ষা প্রকল্পে ধস, নদীগর্ভে বিলীন শত কোটি টাকার সিসি ব্লক

তাসলিমুল হাসান সিয়াম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ জুন ২০২৬ ০৮:০২ | আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৯:৪০

নদীগর্ভে বিলীন শত কোটি টাকার সিসি ব্লক। ছবি: সারাবাংলা

গাইবান্ধা: জেলার সাঘাটা উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙনরোধে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৮২৫ কোটি টাকার নদীশাসন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। সামান্য পানির চাপেই প্রকল্পের সিসি (কংক্রিট) ব্লক নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে শুরু করায় নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামাড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুর ও হলদিয়া এলাকা রক্ষায় প্রায় ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। পরে নদীর ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে তিনটি প্যাকেজে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই সিসি ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনায় প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঘাটা উপজেলার ৭ নম্বর হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় বাস্তবায়নাধীন ‘যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন হতে ফুলছড়ির কাতলামাড়ি এবং সাঘাটার গোবিন্দপুর ও হলদিয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প’-এর ১০ নম্বর সাইটসহ কয়েকটি স্থানে সিসি ব্লক সরে গিয়ে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বড় ধরনের ফাটল ও ধসের চিহ্নও দেখা গেছে।

বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের আশঙ্কা, পানির চাপ আরও বাড়লে প্রকল্পের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নতুন করে নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই ব্লক ধসে পড়ার ঘটনা প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘উজান থেকে পানির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

সাজু নামের আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের যথাযথ তদারকি থাকলে এভাবে ব্লক নদীতে যেত না। কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু কাজের মান কোথায়?’

মতিয়ার রহমান বলেন, ‘বন্যা শুরুর আগেই ব্লক ধসে নদীতে চলে যাচ্ছে। এত বড় প্রকল্পের এমন অবস্থা দেখে আমরা আতঙ্কিত।’

তবে নির্মাণমান নিয়ে ওঠা অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান। বর্ষা মৌসুমে নদীর তীররেখা ডিজাইনের বাইরে যেন চলে না যায়, সে জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে সিসি ব্লক স্থাপন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে পুনর্বাসন করবে। এতে সরকারের অতিরিক্ত কোনো ব্যয় হবে না। প্রয়োজনীয় সিসি ব্লকও মজুদ রয়েছে।’

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবীর বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।