Thursday 04 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৪ জুন ২০২৬ ২৩:৩৪

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

ঢাকা: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত বিশ্ববাসীর জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও জাতীয় উদ্যোগকে আরও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ওই বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে জলবায়ু সংকট সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে খুবই সামান্য অবদান রাখলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও উচ্চ জনঘনত্বের কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত। ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ এরই মধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং কার্বন ক্রেডিট ও বৈশ্বিক কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ঘোষিত এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ বা জলবায়ু কার্যক্রম বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।