ঢাকা: বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর কার্বন মার্কেট গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এমপি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’ বিষয়ে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক কার্বন মার্কেট বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশগত অখণ্ডতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নে কার্বন মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও অপসারণ কার্যক্রমের সঠিক হিসাব, যাচাই এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ অপরিহার্য।’
সভায় জানানো হয়, প্যারিস চুক্তির আওতায় Article 6 Designated National Authority (A6 DNA) হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং বিশ্বব্যাংকের Partnership for Market Implementation (PMI) কর্মসূচির সহায়তায় ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বেসরকারিভাবে সীমিত আকারে কার্বন ট্রেডিং শুরু হলেও সরকারিভাবে এখনও কার্যক্রম চালু হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত এটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেখান থেকে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ দ্রুত আন্তর্জাতিক কার্বন মার্কেটে প্রবেশের প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিবেশ সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ফ্রেমওয়ার্কটি আরও কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য করা হবে।’
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এসব পর্যালোচনা করে ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’ চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।