ঢাকা: চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের কাছে ৯০ দিনের দৃশ্যমান কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের দেওয়া ১০ দফা সুপারিশ গত ২১ মে থেকেই সরকারের হাতে রয়েছে। এখন নতুন পরিকল্পনার চেয়ে ওই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ জমা দেন। পরে ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সুপারিশগুলো প্রকাশিত হয়েছে।
জামায়াতের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে দ্রুত ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করার উদ্যোগ, স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার এবং বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি। পাশাপাশি সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) দ্রুত কার্যকর, জ্বালানি সরবরাহে ডিজিটাল মনিটরিং এবং রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, তিন মাসে সমুদ্রের নতুন গ্যাস অনুসন্ধান বা বড় পাইপলাইন নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে ৯০ দিনের মধ্যে দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপের ওয়ার্কওভার শুরু, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় ব্যবহার, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গ্যাস বণ্টনের সময়সূচি প্রকাশ এবং এসপিএম ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে তৃতীয় এফএসআরইউ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করলেও জামায়াত বলেছে, শুধু নতুন এফএসআরইউ দিয়ে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। এলএনজি আমদানি, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং পাইপলাইন সক্ষমতার বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
সংকট মোকাবিলায় দলটি একটি ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠন, জরুরি ওয়ার্কওভারের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ও ট্যারিফ সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ এবং জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের স্থায়ী ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
এ ছাড়া মহেশখালী ও পায়রার টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি এবং খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু না হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।
জামায়াতের পক্ষ থেকে সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনেরও দাবি জানানো হয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, জ্বালানি সংকটে সরকারের ব্যর্থতা হলে শুধু সরকার নয়, দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে কার্যকর সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের জবাবে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছেন পরিকল্পনা দিন। আমরা বলছি, পরিকল্পনা ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে। আপনি বলেছেন, ভালো পরিকল্পনা হলে বাস্তবায়ন করবেন। আমরা বলছি, বিরোধী দলের ১০ দফা এবং সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ দফাকে সামনে রেখে আজ থেকেই একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করুন। সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিপিডিবি, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করুন। আজ থেকে ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিন।