চট্টগ্রাম: জেলা বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ৩১ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত বন্দর রক্ষা কমিটির কনভেনশনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বন্দর রক্ষা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কনভেনশনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কনভেনশনে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক (ডা.) এম আবু সাঈদ, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, টিইউসি চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, মুক্তি যুদ্ধের গবেষক ডাঃ মাহফুজুর রহমান, নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারুল, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সহসভাপতি শাহ নেওয়াজ চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, ন্যাপ নেতা মিটুল দাশ গুপ্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহসাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, ছাত্রনেতা শুভ দেবনাথ প্রমুখ।
অধ্যাপক (ডা.) এম আবু সাঈদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু চট্টগ্রামের নয়, এটি দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বন্দরের টার্মিনাল কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। তিনি বন্দর রক্ষায় সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বন্দরের সক্ষমতা ও আয় বাড়ানোর পরিবর্তে কোনো ধরনের অনুকূল শর্তে বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল তুলে দেওয়া হলে তা জাতীয় স্বার্থের জন্য প্রশ্ন তৈরি করবে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।
এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, বন্দর ও বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিকদের স্বার্থ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। বন্দরের টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় শ্রমিক সমাজ রাজপথে থাকবে।
ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। বন্দরের এনসিটি ও সিসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। জনগণের সম্পদ জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হওয়া উচিত। তিনি বন্দর রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের জাতীয় সম্পদ। এর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। বন্দর রক্ষা কমিটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরদার করবে। তিনি বন্দর রক্ষার আন্দোলনে রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজস্ব আয়, শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো গোপনীয়তা বা অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
কনভেনশনে আগামী ১৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসংযোগ কর্মসূচি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী ৩১ আগস্ট সোমবার বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষার আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।