Monday 01 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১ জুন ২০২৬ ১১:৫৭ | আপডেট: ১ জুন ২০২৬ ১৪:৪৫

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।

সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সকালের দিকে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তারা সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

আহত ইসলামি ব্যাংক গ্রাহক।

ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক জানান, গত ২৪ মে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো হয়। ঐদিন বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সাথে সাথে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা আওয়ামী লীগের দোসর এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরি খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে স্ব পদে বহাল করার আহ্বান জানান। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের দাবি উপেক্ষা করে এস আলম গ্রুপের লোকজনকে ইসলামী ব্যাংকে পূর্ণবাসনের দিকে এগিয়ে যায়। এরই প্রতিবাদে আজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে থাকে। এতে ১০জন গুলিবিদ্ধ সহ শতাধিক সাধারণ গ্রাহক আহত হয়। আহত অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার ইসলামী ব্যাংকে পতিত আওয়ামী লীগের দোসর এস আলম গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংকে পূর্ণবাসনের চেষ্টা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে সারাদেশে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শাখার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু সরকার ইসলামী ব্যাংকে নগ্ন হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে। ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। গ্রাহকেরা চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে পারছে না এমনকি এটিএম বুথেও টাকা পাওয়া যায় না। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের পক্ষে থেকে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে এবং খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের নিয়ে মিটিং করে চেয়ারম্যান এবং এমডি নিয়োগ দিতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময় পর আবারও ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে।

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস রোববার (২৪ মে) বিকেলে হঠাৎ করে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান। ওইদিন কয়েক ঘণ্টা পরেই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ ও চাপের মুখে পদত্যাগ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হন।

এদিকে চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ায় পর সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া গভর্নর ও চারজন ডেপুটি গভর্নরের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভের মুখে মো. খুরশীদ আলম এবং অপর ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর