ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করেছে সরকার। এতে একসঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রায় ৩৭ হাজার যাত্রী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
রোববার (১৭ মে) বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে আয়োজিত ফ্রি ওয়াইফাই সেবা কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনগুলোতে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে।
যাত্রীসেবা সহজতর করা এবং দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে ইন্টারনেট সুবিধা আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড-এর মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আফরোজা খানম বলেন, সরকারের মেয়াদ মাত্র আড়াই মাস হলেও এর মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। বিদেশফেরত প্রবাসীসহ সব যাত্রীর সুবিধা নিশ্চিত করাই বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য। অচিরেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হবে, যা দেশের বিমান খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তার অংশ হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে এ সেবা চালু করা হয়েছে। যাত্রীরা এখন পুরো বিমানবন্দর এলাকা, এমনকি প্লেনে ওঠার আগ পর্যন্ত এবং কার পার্কিং এলাকাতেও ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন। একই সুবিধা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালেও চালু হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের আটটি বিমানবন্দর, ছয়টি রেলস্টেশন এবং চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে এ সেবা চালু করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে আরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, কয়েক সপ্তাহের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই বিমানবন্দরগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে। সিঙ্গাপুর, দুবাই কিংবা লন্ডনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো বিশ্বমানের স্পিড ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ সেবা চালু করা হয়েছে। শুধু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই প্রায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। ডোমেস্টিক ও ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল, পার্কিং লট থেকে বোর্ডিং ব্রিজ পর্যন্ত পুরো এলাকায় এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন বলেন, বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে প্লেনে ওঠা এবং বিদেশ থেকে ফিরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা পর্যন্ত যাত্রীরা যেন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পান, সেটিই নিশ্চিত করা হয়েছে। গত কয়েক দিনেই শুধু ঢাকা বিমানবন্দরে ২০ হাজারের বেশি যাত্রী এ সেবা ব্যবহার করেছেন এবং প্রায় ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৮০০ যাত্রী এ সেবা ব্যবহার করছেন।