ঢাকা: রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে কথিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল। একইসঙ্গে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও তা বিবেচনায় নেয়নি ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আবদুল জলিলের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার শুনানিতে বলেন, তার মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন এবং তার হার্টে একাধিক ব্লক ধরা পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাকে জামিন দেওয়া প্রয়োজন। তবে ট্রাইব্যুনাল জানায়, দাখিল করা স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে তার অবস্থা গুরুতর বা সংকটাপন্ন বলে প্রতীয়মান হয়নি।
শুনানিতে আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, আবদুল জলিল কখনও দেশত্যাগের চেষ্টা করেননি এবং নিজ বাসা থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রয়োজনে তার পাসপোর্ট জব্দ রেখে বাসায় থেকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি, মামলার তদন্তে সহযোগিতার স্বার্থে তার মক্কেল রাজসাক্ষী হতেও প্রস্তুত বলে জানান।
তবে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল জামিন আবেদন গ্রহণ না করে তা নাকচ করে দেয়।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে আইনজীবী আলী হায়দার বলেন, মামলাটি এখনও তদন্তাধীন এবং এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত আবদুল জলিল বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেন তিনি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তার মক্কেল ট্রাইব্যুনালকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-১ এর একক বেঞ্চ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
২০১৩ সালের ওই ঘটনায় আবদুল জলিল ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।