Saturday 22 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পুলিশে চাকরি পেলেন লালমনিরহাটের ১৭ তরুণ-তরুণী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০১:২৬ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:১০

পুলিশে চাকরি পাওয়া লালমনিরহাটের ১৭ তরুণ-তরুণীর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাট: চাকরির নিয়োগ মানেই উৎকোচ, দালাল আর সুপারিশের দৌরাত্ম্য—এমন ধারণা ভেঙে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তরিকুল ইসলাম। মাত্র ১২০ টাকার সরকারি ফি জমা দিয়েই ১৭ তরুণ-তরুণী পেলেন বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট পুলিশ লাইন্সের ড্রিল সেডে এক আবেগঘন পরিবেশে ঘোষণা করা হয় ফলাফল। তখন নির্বাচিত প্রার্থীরা আনন্দাশ্রুতে ভিজে জড়িয়ে ধরেন একে অপরকে। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার মুহূর্তে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে কান্না, আবারও সেই কান্নায় মিশে ছিল অকৃত্রিম আনন্দ।

বিজ্ঞাপন

এসপি তরিকুল ইসলাম জানান, এবার কনস্টেবল পদে ১,৮৪৪ জন প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার পর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪৬ জন। সেখান থেকে ১৫ জন ছেলে ও ২ জন মেয়ে—মোট ১৭ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া অপেক্ষমাণ রয়েছেন আরও ৩ জন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কোনো ধরনের উৎকোচ বা সুপারিশ ছাড়াই শুধু মেধার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মাত্র ১২০ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব।”

চাকরি পাওয়া এক তরুণ বলেন, “আমরা ভাবতেও পারিনি এমনভাবে চাকরি পাওয়া সম্ভব। মনে হচ্ছে বুকের ভেতর থেকে বোঝা নেমে গেছে। এখন শুধু দেশের জন্য কাজ করতে চাই।”

এক অভিভাবক চোখ মুছতে মুছতে বলেন, “সারা জীবন শুনেছি চাকরি পেতে লাখ লাখ টাকা লাগে। আজ নিজের সন্তানের জন্য বিনা উৎকোচে চাকরি পেয়ে মনে হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ দেখলাম।”

প্রার্থীদের উদ্দেশে এসপি তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, “এখন প্রতারক চক্র আপনাদের প্রলোভন দেখাতে পারে যে তারা চাকরি পাইয়ে দিয়েছে। কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। এমন ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন, আমরা সেই প্রতারকদের জেলে পাঠাব।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জয়নাল আবেদীন, পিপিএম-সেবা পদকপ্রাপ্ত মো. ইলিয়াছ হোসেন, জেলা ডিবি ওসি সাদ আহম্মেদসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর