ঢাকা: অনেক রক্ত ঝরিয়ে, ব্যাপক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এবং অনেক আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রের নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র আছে এবং পরাজিত নানা শক্তি চক্রান্ত করতে পারে ও ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। সেটা যাতে করতে না পারে, সেই কারণে আমরা আগে থেকেই সবাইকে সচেতন করছি।’
তিনি বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদেরকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে যাতে তারা পাহারাদারের মতো কাজ করেন। সনাতন ধর্মের ভাই-বোনদের সঙ্গে নেতাকর্মীরা একযোগে কাজ করবে এবং শুধু এইবারই নয়, গত দুর্গাপূজা ও তার আগের দুর্গাপূজাসহ সমস্ত পূজাতে একইভাবে দলের নেতাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।’
রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতা করতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যেন কোনো উসকানিতে দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত না করতে পারে, সেই ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।’
রিজভী বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা এবং বিভিন্ন উৎসবে নাগরিক হিসেবে তাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য যে কাজগুলো করেছি, এবারও তাদের রথযাত্রা উৎসব আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে তাদের পাশে থাকবে। কেউ যেন কোনো উসকানি এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে।’
হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য যে সমস্ত নৃগোষ্ঠীরা আছে, সবাই আজ পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ বলে রুহুল কবির জানান রিজভী। তিনি বলেন, ‘তারা বুঝতে পেরেছেন যে কারা বিভিন্ন সময়ে জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। গত নির্বাচনসহ নানা সম্প্রদায়ের যে পূজা-পার্বণ হয়, প্রত্যেকটিতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করেছে যে, কোনো ধরনের অপশক্তি আর আমাদের এই জাতির মজবুত ঐক্যকে ভাঙতে পারবে না।’
রিজভী বলেন, ‘দেশকে সামগ্রিক অগ্রগতির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।’
কোনো এজেন্ট উসকানি দিতে কোনো গর্হিত কাজ করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে এ দেশের জনগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে কাজ করবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য যে সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তি ও পলিটিক্যাল দল আছে, তাদেরকেও আমরা আহ্বান জানাচ্ছি তারাও যাতে একইভাবে কাজ করেন এবং রথযাত্রার অনুষ্ঠানটি যাতে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারেন হিন্দু ধর্মের ভাই-বোনেরা।’ সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে একেবারে গরিব মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কাজ তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও পরবর্তীতে হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচিগুলো সরকার গঠনের পর থেকেই বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘খাল কাটার মাধ্যমে আমাদের নদী-নালাকে আরও বেশি প্রাণবন্ত ও আরও বেশি সজীব করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর প্রবহমানতা অব্যাহত রাখাসহ বর্ষা মৌসুমে বন্যার সময় খালে পানি জমবে এবং শুকনো মৌসুমে এটা দিয়ে সেচ কাজ ও মৎস্য চাষ করা হবে। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী এসব বৃহৎ কর্মসূচি, যেগুলো তার বাবা ও তার মা নিয়েছিলেন, সেগুলো নিষ্পন্ন ও সুসম্পন্ন করার জন্য দিন-রাত বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন।’
মাঠ পর্যায়ে কর্মরতদের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কর্মসূচি সম্পাদন করার জন্য যারা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছে, তারা যদি কতটুকু কাজ হলো সেসব বিষয়ে সঠিক তথ্য না দেয়, তাহলে কিন্তু সরকার যতই ছোটাছুটি করুক, অন্ধকার নেমে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মাঠপর্যায়ে যাতে গতিশীলতা থাকে, তারা যাতে কোনো ধরনের প্ররোচক হয়ে কাজ না করে এবং সরকারের কর্মসূচিগুলোকে যথার্থভাবে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করেন, সেসব দেখভালের আহ্বান জানাই।’
প্রাইমারির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচিতে প্রায় ১৫০ উপজেলায় ৩০ লাখ প্রাইমারি স্কুল শিক্ষার্থীর পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য টিফিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সরকারের একটি মহৎ কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা ও তাদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ সাধনের এই প্রচেষ্টা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।’ যেসব স্কুলে খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে সেসব এলাকার কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা ও কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেন তিনি।
এসময় অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় নেতা ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।