কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন এবং রাজারছড়া সৈকত থেকে জোয়ারের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘসময় সাগরে থাকায় মরদেহগুলো পঁচা-গলা ও বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী কোনো ট্রলারডুবি অথবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকাডুবির ঘটনায় এসব মরদেহ সাগরে ভেসে আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জীব জানান, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলাপাড়া সৈকত থেকে প্রথম মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরনের পোশাক দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো রোহিঙ্গা নারীর মরদেহ হতে পারে।
একই দিন দুপুরে সেন্টমার্টিনের পশ্চিম সৈকত থেকে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা আরেকটি অর্ধগলিত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘসময় সাগরের পানিতে থাকায় মরদেহটি পঁচে যায় এবং মাথা বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ওসমান গনি বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে মরদেহটি নৌপথে টেকনাফ বা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’
এদিকে, বুধবার বিকেলে টেকনাফ সদরের রাজারছড়া সৈকত থেকে আরও একটি কঙ্কালসার নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহটি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ও কঙ্কালসার হয়ে যাওয়ায় ময়নাতদন্ত সম্ভব হয়নি। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টেকনাফ পৌরসভার উদ্যোগে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহটি দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। এর ফলে টানা আটদিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।