ঢাকা: সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নির্মূলে পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে কোনো কর্মকর্তা ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শান্তিনগরে দুর্বৃত্তের হামলায় আহত চিকিৎসক মো. আসাদুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রশংসা করি। তবে তাদের আরও কাজ বাকি আছে। এসব সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী যারা আছে, তাদের নির্মূল করতে চাই। এসব বিষয়ে যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চিকিৎসক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৮ আগস্ট রাতে শান্তিনগর এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার শেষে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
মন্ত্রী বলেন, ‘একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুর্বৃত্তরা বড় বড় হাসপাতালের চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বার্তা দেয় এবং সর্বশেষ হামলা করে চাঁদাবাজি করছে।’
তিনি জানান, দুই দিনের মধ্যে ওই চক্রের ৭ সদস্যের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের ও ডিবির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে এবং অপর তিনজনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের প্রশংসা করি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তারা মূলহোতাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। সে বিদেশে ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং সেখানে লোকসান করেছে। পরে কিছু সন্ত্রাসীকে একত্রিত করে একটি সংগঠন গড়ে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, চক্রটি ধনী ব্যক্তি, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি করছিল। এর পেছনে সরকারকে অস্থিতিশীল করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর পেছনে সরকারকে অস্থিতিশীল করার কোনো পরিকল্পনা নেই। এরা চাঁদাবাজ। হয়তো রাতারাতি কোটিপতি হতে চায়। তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দাগি আসামি। তারা বিভিন্ন গডফাদারের নামও ব্যবহার করে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূল করা হবে। শুধু চাঁদাবাজদের তালিকা নয়, তাদের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তাদেরও তালিকা করা হবে।
এ সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে সারাদেশে চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাগান গেটে মানববন্ধন করে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম।
মানববন্ধন থেকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
- চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
- চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মকালীন নিরাপত্তার জন্য কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন।
- দেশের সব হাসপাতালকে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থলে পরিণত করা।
মানববন্ধনে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ চিকিৎসক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।