ঢাকা: শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ও বুধবার (২৯ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম রামানানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, জনশক্তি রফতানি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা এবং শ্রম অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধি এবং শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার, শ্রমবাজারে বিদ্যমান সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
বর্তমানে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। সফর চলাকালে প্রথমদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ফোনালাপে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জ্বালানি, বিনিয়োগ, বন্দর উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়াও আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে সহযোগিতা, এক্সিটা গ্রুপ বারহাডের বিনিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি, কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্ভাবনা এবং এমএমসি করপোরেশন বারহাডের সঙ্গে বন্দর ও অবকাঠামো খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই উচ্চপর্যায়ের সফর ও ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রা লাভ করবে।