ঢাকা: দীপিকা পাল। ভারতীয় নাগরিক। বাড়ি ভারতের বেঙ্গালুরু। বাংলাদেশে এসেছিলেন বেড়াতে। তার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে। বেড়ানো শেষে গত ১২ জুলাই বেনাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে নিজ দেশ ভারতে ফিরছিলেন। তবে বাদ সাধে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। এরপর শূন্য রেখায় একাকি কেটে যায় দিন-রাত। একসময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ভারতীয় ওই নারী। অবশেষে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে গ্রহণ করে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
সীমান্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ভারতীয় ইমিগ্রেশন সন্দেহ করেছিল, ওই নারী একজন মুসলিম। তাই তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। পরে সোমবার দুপুরে তাকে ভারতে প্রবেশ করতে দেয়। ওই নারীর কাছে ভারতীয় বৈধ পাসপোর্ট থাকার পরও এমনটি করা হয়েছে তার সঙ্গে।
জানা গেছে, ভারতের বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা দীপিকা পাল গত ১৫ জুন বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। প্রায় এক মাস বাংলাদেশে অবস্থান শেষে নিজ দেশে ফিরছিলেন। ১২ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে তিনি বেনাপোল দিয়ে ভারতে ফেরার জন্য ভারতীয় ইমিগ্রেশনে উপস্থিত হন। সেখানে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রথমে তার পাসপোর্ট যাচাইয়ের নামে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। এর পর অপেক্ষা আর শেষ হয় না। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। এর পর বর্ডার ক্লোজড। তবুও অনুমতি মেলেনি দীপিকার নিজ দেশে ফেরার।
বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, নিজ দেশের নাগরিককে তো ফেরত নেয়ইনি, বরং উলটো রাত ৯টার দিকে ওই নারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। তার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে। সুতরাং, তাকে ফেরত নেওয়ার প্রশ্নই আসে না এবং সে সুযোগও নেই। বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে না পেরে দীপিকা পালকে ভারতীয় অংশের রিট্রিট প্যারেড গ্যালারি এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য করানো হয়।

ভারতীয় নাগরিক দীপিকা পালের ভিসা ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাগজপত্র। ছবি: সংগৃহীত
রাতভর সীমান্ত এলাকায় অবস্থানের এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে ১৩ জুলাই সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে দীপিকার পাসপোর্ট যাচাই কার্যক্রম শেষ করে ভারতীয় ইমিগ্রেশন তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু এর মধ্যে পেরিয়ে যায় প্রায় ২১ ঘণ্টা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই নারী বেশ অসুস্থ ছিলেন। তিনি নাকি ভারতে প্রবেশের আগে বলেন, ‘নিজ দেশে প্রবেশে এরকম যাতে আর কেউ হয়রানির শিকার না হন। আমার ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে, আমি ভারতীয নাগরিক। সব কিছুর প্রমাণাদি রয়েছে। এর পরেও আমাকে চরমভাবে হয়রানি করা হয়েছে। এর বিচার চাইব আমি।’ পরে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন।
এদিকে সীমান্তসংশ্লিষ্টরা জানান, বৈধ পাসপোর্টধারী এক নাগরিককে নিজ দেশে প্রবেশে এত দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র তার নিজ নাগরিককে দেশে প্রবেশের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। এ ঘটনায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
সম্প্রতি পুশইনের ঘটনাগুলোতেও ভারতীয় বর্ডার গার্ড বাহিনী-বিএসএফ নানানভাবে নাগরিকদের মানবিক অধিকার হরণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা সাধারণ নাগরিকদের শূন্য রেখায় খাবার-বস্ত্রবিহীন বসিয়ে রেখে প্রতিনিয়ত অমানবিকতার জন্ম দিচ্ছে। মানবাধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।