Saturday 11 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ বেডে উন্নীত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১১ জুলাই ২০২৬ ১৬:৫৫

ঢামেকের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ৫০০টি উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৫টি উপজেলায় ১০০ বেডের হাসপাতাল রয়েছে। দেশের উপজেলাগুলোর জনসংখ্যার তুলনায় এটি অপ্রতুল। সরকার দেশের সবকটি উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৩১ থেকে ৫১ বেডের প্রতিটি হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি সকল হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বিরতিহীন বিদ্যুৎ সরবরাহের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এমন এক মহৎ প্রতিষ্ঠান যেটি আমাদের সামনে এক জীবন্ত ইতিহাস ‘কালের সাক্ষী’। শুধুমাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থান, প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই ক্যাম্পাসে শুধুমাত্র দেশ বিদেশের সেরা চিকিৎসকই তৈরী হয়নি, শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা কিংবা মুক্তিযোদ্ধাসহ এই প্রতিষ্ঠান থেকে এমন মহৎ মানুষ তৈরী হয়েছেন, যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের জীবন ও স্বার্থ বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ এই যাত্রা পথে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ দেশের সকল প্রান্তের সকল মানুষের কাছে কোনো না কোনোভাবে পরিচিত। বিশেষ করে রাজধানীর মানুষের সার্বক্ষণিক নির্ভরতার জায়গা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতাল। এই হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষ কিংবা করিডোরে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষের আনন্দের বেদনার কাব্য রচিত হয়। এখানে প্রতিদিন যেমন অনেক জীবনের অবসান হয় আবার প্রতিদিন অসংখ্য নব জীবনের সূচনা ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একটি অনুষ্ঠানে আমি বলেছিলাম, চিকিসকগণই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। চিকিৎসকগণই রোগে শোকে কাতর মানুষটির পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন। একজনের চিকিৎসকের উপদেশ আন্তরিক ব্যবহারও একজন রোগীর কাছে ঔষধের মতো কার্যকরী হয়ে ওঠে। সুতরাং, একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তথা চিকিৎসক, নার্স এবং সকল স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। ইতোমধ্যেই হাসপাতালগুলোতে১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অপরদিকে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আরো পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর বিদ্যমান শূন্যপদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণ যাতে শুরুতেই স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ পায় এ লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ হবেন নারী হেলথ কেয়ারার যারা পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাখাতের পর সরকার দেশের ইতিহাসে এবারই স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। এ বছর জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দের পরিমান ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।এই বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের পরিমান আগামী ৫ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর