Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে ৪ প্রতিষ্ঠানের তথ্য চায় ইসি

‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৯ জুলাই ২০২৬ ২২:৩৬ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২৬ ২৩:০৩

নির্বাচন কমিশন। ছবি: সারাবাংলা

‎ঢাকা: ‎নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকারের কাছে চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে। সেই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের সীমানা এবং ওয়ার্ড বিন্যাস দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

‎বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা চারটি পৃথক চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিগুলোতে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এসব তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

‎ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের জন্য পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৮ অনুযায়ী পরিষদগুলোর প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদ কার্যকর থাকবে এবং ধারা ২০ অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬ ও ৩৪ অনুযায়ী প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ কার্যকর থাকবে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তাই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এই চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের শপথ গ্রহণ ও প্রথম সভার সঠিক তারিখ জানা প্রয়োজন।

‎এর আগে গত ৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান যে, সীমানা নির্ধারণের কাজগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো করে থাকে। দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করতে তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতোই অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন পর্যায় থেকে সবধরনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

‎ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছরই ৩ হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। মামলা ও সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ১০৮টি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন নির্বাচন আটকে আছে। দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী এবং বাকি ১০টিতে আইনি জটিলতা রয়েছে।

‎অন্যদিকে নতুন পাঁচটি উপজেলা (বগুড়ার মোকামতলা, কক্সবাজারের মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ)সহ দেশের মোট ৫০০টি উপজেলা পরিষদের কোনোটিতেই বর্তমানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে। একই অবস্থা সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রেও; নতুন সিটি করপোরেশন বগুড়াসহ দেশের মোট ১৩টি সিটি করপোরেশনের কোনোটিতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই, ফলে সব কটিই এখন নির্বাচন উপযোগী।

‎উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করেছিল। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে দেশের পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, কেবল ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর