ঢাকা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও যাবতীয় প্রস্তুতি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, এই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে অনেক বিষয়ে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সরকারের সঙ্গে লিখিত বা অলিখিত আলোচনা ছাড়া এখনই চূড়ান্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া ইসির জন্য যৌক্তিক হবে না। তবে নির্বাচন কমিশন আগামী অক্টোবর মাসকে লক্ষ্য রেখে তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যদি অক্টোবরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তার অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং এই বিষয়ে কমিশনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি (আরএফইডি) আয়োজিত ফল উৎসবে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনাররা। আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দিন জেবেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইকরাম উদ-দৌলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানই খালি পড়ে আছে। আইনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সব নির্বাচন একসঙ্গে চলে আসায় হুবহু আইন অনুযায়ী তা করা হয়তো সম্ভব হবে না। তবে নির্দিষ্ট সময়ে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকারের সীমানা নির্ধারণ ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। ইসি খুব দ্রুতই সরকারকে চিঠি দিয়ে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের অনুরোধ জানাবে এবং এই জটিলতা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা চাইবে।
কোন নির্বাচনটি আগে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না জানালেও ইসি মাছউদ বলেন, বাস্তবক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা থেকে নির্বাচন শুরু হওয়া অধিক যৌক্তিক। কারণ, উপজেলা পরিষদে পদাধিকার বলে তার অন্তর্গত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন। তাই পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন না হলে উপজেলা পরিষদ গঠন করা যায় না। অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনগুলো বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। মানুষের কোন নির্বাচনটা বেশি প্রয়োজন, কোথায় মানুষ বেশি অসুবিধা বোধ করছে- সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেই নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করা হবে।
বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে উল্লেখ করে আব্দুর রহমানেল মাছউদ আশা প্রকাশ করে বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সেই মানের করা সম্ভব হবে। নির্বাচনে বহু মানুষের সম্পৃক্ততা থাকে। তাই সরকারের ইতিবাচক মনোভাব, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন অবস্থান, রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক মনোভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন— এই সবকিছুর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি সঠিক নির্বাচন উপহার দিতে পারে।
অক্টোবরের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করার কারণ হিসেবে তিনি জানান, যেহেতু বহু লোকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাই প্রস্তুতি পেছানো যায়, কিন্তু আগানো অসম্ভব।
একই অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব ধরনের প্রাক-প্রস্তুতি এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরাও সংসদে এই নিয়ে কথা বলেছেন। আগামী সপ্তাহ থেকে ইসির সিনিয়র সচিব এই বিষয়ে ধারাবাহিক আপডেট দিতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আচরণবিধি এরই মধ্যে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর ওপর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ বা মতামত পাওয়া গেছে। আইনগুলো খতিয়ে দেখে যদি কোনো সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, তা নিয়ে কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যে সীমানা নির্ধারণের কাজ করে, তা দ্রুততম সময়ে শেষ করার জন্য ইসি তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতোই একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর।