সিলেট: মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ৮ ফুট গভীরে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে নিখোঁজের নাটক সাজানো স্বামী আলমগীর হোসেনকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার ১৯ দিন পর আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোমবার (৬ জুলাই) অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খননকাজ চালিয়ে নিজ বাড়ির উঠান থেকে স্ত্রী জাহেদা বেগমের (৩৮) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী জাহেদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিনি বাড়ির উঠানে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।
নিজে বাঁচার জন্য আলমগীর এক চতুর কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি আজ রাজনগর থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছে মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে বিদেশে চলে গেছেন। তবে জিডি করার সময় আলমগীরের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অস্বাভাবিক আচরণে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আলমগীর ভেঙে পড়েন এবং হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ পুলিশ বাড়ির উঠান খুঁড়ে জাহেদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহত জাহেদা ও আলমগীর দম্পতির ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’