Friday 03 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

খেজুর গাছ থেকে পড়ে প্রবাসীর মৃত্যু, দেশে ফিরল মরদেহ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩ জুলাই ২০২৬ ১৯:৪১

ওই প্রবাসীর শেষকৃত্যে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়।

নীলফামারী: ওমানে খেজুর গাছ থেকে পড়ে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নীলফামারীর প্রবাসী মো. হাজিরুল ইসলামের (৪০) মরদেহ ১৪ দিন পর দেশে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে তার মরদেহ নীলফামারীর সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী শাহপাড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

হাজিরুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত আমিজ উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘ ১০ বছর আগে পরিবারের সচ্ছলতার আশায় ওমানে পাড়ি জমান তিনি।

পরিবার জানায়, বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘ ১৪ দিন অপেক্ষার পর স্বজনদের কাছে হাজিরুলের মরদেহ পৌঁছালে স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরাও তাদের সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসেন।

বিজ্ঞাপন

পরিবার ও হাজিরুলের সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে জমিজমা বিক্রি করে ওমানে যান হাজিরুল ইসলাম। সেখানে তিনি একটি খেজুর বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ১৪ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাজ করার সময় প্রায় ১০ মিটার উঁচু একটি খেজুর গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ওমানের রুস্তাক হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০ জুন তিনি মারা যান।

হাজিরুলের সঙ্গে কর্মরত সহকর্মী মসিয়ার রহমান বলেন, ‘গত ১৪ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা খেজুর বাগানে কাজ করছিলাম। হাজিরুল একটি উঁচু খেজুর গাছে উঠে খেজুর কাটছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ পা ফসকে নিচে পড়ে যান। এতে তার মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০ জুন তিনি মারা যান।’

নিহত হাজিরুলের ভাতিজা মো. রাব্বানী ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ দেশে আনার কথা ছিল গত ৩০ জুন। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাসের কিছু প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ায় মরদেহ পাঠাতে আরও দুই দিন বিলম্ব হয়। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হলে অবশেষে মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে হাজিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন উপস্থিত মুসল্লিরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর