সিলেট: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের ধলাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ধলাই নদীতে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
নিহত সুব্রত বিকাশ সাহা (৩৩) ফেনী জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দা মিহির লাল সাহার ছেলে। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর প্রায় ২টার দিকে তিন বন্ধুর সঙ্গে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের ধলাই নদীর উৎসমুখে গোসল করতে নামেন সুব্রত বিকাশ সাহা। এ সময় নদীর প্রবল স্রোতে গভীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘসময় তল্লাশি চালিয়েও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে শুক্রবার সকালে নদীতে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় তা উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, নিখোঁজ হওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনের পর্যটন এলাকার সেবাকর্মী ফায়ার সার্ভিস বিজিবি পুলিশ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তিনি সাতার না জানা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য লাইভ জ্যাকেট ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।
কোম্পানিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুর রহমান খান জানান, পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান নেন। পরে সকালে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসল করতে নেমে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৯ জুন ধলাই নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান মেহেদী হাসান ইমন (১৬)। তিনি সিলেট নগরীর লালাদিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা জামাল মিয়ার ছেলে।
একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় পর্যটনকেন্দ্রটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং দর্শনার্থীদের জন্য কার্যকর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।