Wednesday 08 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আপিল শুনানি শেষ, রায় বৃহস্পতিবার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ জুলাই ২০২৬ ১৩:৩০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২৬ ১৩:৩৬

সুপ্রীম কোর্ট। ফাইল ছবি

ঢাকা: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল-সংক্রান্ত আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে রিটকারী ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিভ টু আপিল শুনানির অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ। এরপর মামলার নিয়মিত শুনানি শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে এটি কার্যকর হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীতকরণ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতি পুনর্বহাল এবং রাষ্ট্রের মূলনীতিতে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান সংযোজন এবং জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমা মেয়াদোত্তীর্ণের পরবর্তী ৯০ দিনের পরিবর্তে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজনের বিধানও যুক্ত করা হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার-সহ ৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন। পরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণফোরামসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন মামলায় ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত হয়ে শুনানিতে অংশ নেয়। পৃথকভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও একই বিষয়ে রিট দায়ের করেন।

রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের বিধান, সংবিধানের ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ, ৪৪(২) অনুচ্ছেদ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোট-সংক্রান্ত পরিবর্তন বাতিল ঘোষণা করা হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে পরে ড. বদিউল আলম মজুমদার, এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া, জাহরা রহমান, মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথকভাবে লিভ টু আপিল করেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন মামলায় পক্ষভুক্ত হন।

শুনানি শেষে রিটকারীদের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া আদালতে দাবি করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক নয়, সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর