ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি ও আরও দুইজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেওয়া রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন।
তিনি জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।
রোববার (২৮ জুন) রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান তিনি।
আইনজীবী বলেন, ‘চঞ্চল চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি বিচারবহির্ভূত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য (এক্সট্রা-জুডিশিয়াল কনফেশন) উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছে একাধিকবার আপত্তি জানিয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আবেদন করা হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন।’
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন ১৯ জুলাই তার মক্কেলের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। সে সময় চঞ্চল বাংলাদেশ টেলিভিশন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যার তথ্য কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এও রয়েছে। কিন্তু একটি ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বিবেচনা করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে যথাযথ হয়নি বলে তাদের বিশ্বাস। এ কারণেই তারা আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ সময় আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী আরশাদুল হক বাবুসহ অন্য আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে একই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৪ আসামিকেই পলাতক উল্লেখ করা হয়েছে।