ইরানের কৌশলগত বন্দর নগরী ‘বন্দর আব্বাস’-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলা এবং এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পালটা হামলায় মধ্যপ্রাচ্য ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ সংঘর্ষের ফলে আন্তর্জাতিক বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় ২৭ মে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছে চারটি ইরানি আক্রমণকারী ড্রোনকে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপকে ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় ইরান প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন সূত্র। যদিও কুয়েতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করেছে বলে জানা গেছে। তাছাড়া, এ হামলার ঘটনায় কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘কৌশলগত এই সামুদ্রিক পথ যেকোনো মূল্যে খোলা থাকতে হবে।’ একই সঙ্গে ওমানকে ঘিরে ইরানের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাম্প্রতিক পালটাপালটি হামলা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের দামে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া, এ অঞ্চলটিতে পুনরায় সামরিক উত্তেজনা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে বলেও মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।