Thursday 04 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আলজাজিরার বিশ্লেষণ / আলোচনার চেয়ে ফের ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কাই বেশি

আবু সাঈদ সজল নিউজরুম এডিটর
১৮ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪১ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৬

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

তেহরান থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি বিশ্লেষক অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী প্রণালিটি খোলার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যুদ্ধবিরতির শর্তের লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা আরও সৈন্য ও সরঞ্জাম নিয়ে আসছে—এটিও চুক্তির আরেকটি লঙ্ঘন।’

এই বিশ্লেষক দাবি করেন, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে ইরান সীমিতভাবে প্রণালি খোলার চেষ্টা করার পর ট্রাম্প দ্রুত গণমাধ্যমে গিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন। যার ফলে তেহরান আবার প্রণালিটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে নেয়।

বিজ্ঞাপন

কূটনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে খোশচেশম পরিষ্কার করে বলেন, ‘এখন সত্যিই আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে খুব বেশি কঠিন। কারণ, ট্রাম্প প্রতি ঘণ্টায় তার অবস্থান ও বক্তব্য পরিবর্তন করেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি এবং একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি সরে আসার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ট্রাম্প এমন ব্যক্তি নন যার সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব। তিনি জাতিসংঘ কিংবা নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি কোনো ধরনের সম্মান প্রদর্শন করেন না।

অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম মনে করেন, যেকোনো ধরনের আলোচনার চেয়ে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় এখনো সম্মত হয়নি ইরান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের সময় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি উত্থাপন করেছে।

ইরান স্পষ্ট করেছে, এসব দাবি প্রত্যাহার না হলে তারা আলোচনায় বসবে না। পাশাপাশি তারা দীর্ঘ ও ফলহীন আলোচনায় যেতে অনাগ্রহী বলেও জানিয়েছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ বলেন, ‘উভয় পক্ষ একটি অভিন্ন কাঠামোতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনার কোনো তারিখ নির্ধারণ সম্ভব নয়।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো আলোচনায় আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইরানের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

অন্যদিকে, মিসর ও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি আশা প্রকাশ করেছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চূড়ান্ত চুক্তির অগ্রগতি হতে পারে। তার মতে, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে।

ইরান শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করে। পরে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি ইরানের নৌবাহিনী ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে সেগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকটি ছিল ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি সংলাপ। প্রায় ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক হলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

আবু সাঈদ সজল - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর