হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, প্রণালিতে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজ, ট্যাংকার ও নৌযানকে নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ এবং ইরানের অনুমোদন নিতে হবে। অন্যথায় তাদের চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সব জাহাজ, বাণিজ্যিক নৌযান ও তেলবাহী ট্যাংকারকে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি নিতে হবে। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের নৌ চলাচলের নিরাপত্তা গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
অন্যদিকে ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৯ মে) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী ‘লিয়ান স্টার’ নামের একটি জাহাজ ইরানের একটি বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে থামাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সেন্টকমের দাবি, জাহাজটিকে ২০ বারের বেশি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। এরপর একটি মার্কিন বিমান জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার পর জাহাজটি ইরানের দিকে যাত্রা বন্ধ করে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা দেন, গত মাসে ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মার্কিন অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালির আশপাশে আটকে থাকা জাহাজগুলো এখন নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবে।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।