Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ জুলাই ২০২৬ ১৪:৩১ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ২২:২৮

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ার ঘটনায় তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার বা উপস্থিতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ বিজ্ঞান গবেষণাগার (সায়েন্স ল্যাবরেটরি) এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে একজন করে বিশেষজ্ঞ থাকবেন। স্বাস্থ্য সচিব ও বিএসটিআইকে কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

এর আগে, সোমবার (২৭ জুলাই) দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়।

রিটের পটভূমিতে রয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর একটি গবেষণা। ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি গত ২৬ জুলাই প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, মোট নমুনার ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০-৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এ ধরনের কণা পাওয়া গেছে।

গবেষণায় আরও উঠে আসে, দেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দু’টি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামের দু’টি নমুনার দু’টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

ইএসডিওর গবেষকদের ভাষ্য, টুথপেস্টে কোনো ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা উচিত নয়। এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল’-এ, যেখানে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে আটটি টুথপেস্টে শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর