ঢাকা: সকাল সকাল রিক্সা থেকে নেমে চালক রহিম মিয়া বাজারের সবচেয়ে সস্তা মাছ পাঙাশের দাম জানতে চাইলেন। কিন্তু দাম শুনে হতাশ হলেন তিনি। কারণ এককালে গরীব মানুষের আমিষের জোগান দিয়ে আসা এই মাছের দাম এখন ২৩০ টাকা করে কেজি। এরপর তিনি হতাশ হয়ে গেলেন ডিমের দোকানে গিয়ে। সেখানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা। খুচরা আরও বেশি। এভাবেই প্রতিদিনই কোন না জিনিসের দাম বাড়ছে। আস্তে আস্তে রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
তবে ভারত থেকে আমদানির পর বাজারে কাচামরিচের দাম আগের তুলনায় অনেক কমেছে। উপায় না পেয়ে বেশিরভাগ ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণ মরিচ কিনে বাড়ি ফিরছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাজারে ২০০ টাকার নিচে মিলছে না মাছ ও ব্রয়লার মুরগি। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকায় এবং গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকার আশপাশে। ব্রয়লার, পাঙাশ ও তেলাপিয়ায় লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়ছে চাপ। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
রাজধানীর বাসাবো, মুগদা ও মালিবাগ বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে শুধুমাত্র গরুর মাংসের দাম।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে মাছে ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি কেজিতে বেড়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়, আর ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে পরিবর্তন নেই। সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পুকুরে চাষ করা মাছ পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল, পোয়ায় কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
বাসাবো বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, বাজারে মুরগির চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। সোনালি মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আজ প্রতি কেজি ২০০ টাকায় ব্রয়লার এবং ৩৩০ টাকায় সোনালি মুরগি বিক্রি করছি। বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় দামে তেমন ওঠানামা নেই।
শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকে মাছের দাম আগের মতোই। কিছু মাছের দাম সব সময় বেশি থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হচ্ছে। সেগুলোর দাম সব সময় বেশি। তবে পুকুরে চাষের মাছের দামও দিন দিন বাড়ছে। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়, এ জন্য বিক্রিও বেশি দামে করতে হয়। মাছের দাম বাড়ার কারণে আমাদের পুঁজিও বেশি লাগতেছে।
আরও দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা। প্রতি কেজি গরুর মাংস কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে খরচ করতে হবে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা লতিফ সরকার বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লে তার প্রভাব নিম্ন আয়ের মানুষের উপরে সরাসরি পড়ে। আমরা তো দেশি মুরগি বা পাকিস্তানি সোনালি মুরগি কিনে খেতে পারবো না। ব্রয়লার, পাঙাশ ও তেলাপিয়া আমাদের ভরসা। সেখানে দাম বাড়লে পকেটে টান পড়ে।
ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত থাকায় দিনাজপুরের হিলি বাজারে কমতে শুরু করেছে দেশীয় কাঁচামরিচের দাম। বর্তমানে মানভেদে দেশীয় কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। সরবরাহ বাড়ায় বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি থেমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে দেশীয় কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ কয়েক দিন আগেও একই কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। ভারতীয় কাঁচামরিচ আমদানি শুরুর পর বাজারে সরবরাহ বাড়তে থাকায় দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা অটোরিকশাচালক মেজাম্মেল হক বলেন, কয়েকদিন আগেও কাঁচামরিচের দাম এত বেশি ছিল যে প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হতো।