ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় পতাকা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অবমাননার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (টিএসসিসি) অবস্থিত প্রেস কর্নারে সংবাদ সম্মেলনে দুঃখ প্রকাশ করেন তারা। এর আগে, গতকাল সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউট্যাব’ ও ‘জিয়া পরিষদ’ ও ‘জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট’।
এর আগে, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অবস্থানকালে প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। ওই সময় ভিতরে থাকা এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা জড়িয়ে উত্তেজিত হয়ে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। তারমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ছিলো বলে জানা যায়। পরে রোববার (১৯ এপ্রিল) শিক্ষক সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশের পর সোমবার বিষয়টা স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলনে এসব ব্যাখ্যা দেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার দিন (১৫ এপ্রিল) বিকেলেই আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছি- গতকালকে (রোববার) আমাদের সম্মানিত শিক্ষকরা একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমরা জানি না, তারপরও যদি উনারা কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা সমাজকল্যাণ পরিবারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চাই না ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার কেউ রাজনৈতিকভাবে অন্যদিকে ডাইভার্ট করুক।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের দিনে আমাদের একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ ছিল। চার দফা দাবি নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে যাই। একপর্যায়ে দাবি আদায়ে যখন আমরা প্রশাসন ভবনের গেটে তালা দিই, গুটিকয়েক শিক্ষার্থী ও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভিতরে আটকা ছিল। উনারা আমাদেরকে বলছিল যে, আপনারা গেট খুলে দেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের তাড়া বা খুব বেশি সমস্যা যাদের ছিল, তাদের প্রবেশ/বাহির হওয়ার সুযোগ দিয়েছি। ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে কর্মচারীদের বলেছিলাম যে, ভিসি স্যার আসা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করেন, যদি কথা বলে সন্তুষ্ট হই; আমরা আপনাদেরকে ছেড়ে দেবো।
এসময় তারা বলেন, একপর্যায়ে রেজিস্টারভুক্ত কর্মচারী কি-না জানি না, একজন লোক আমাদের সাথে এবং আমাদের মেয়েদের স্লেজিং করেন। রাগান্বিত অবস্থায় তেড়ে আসার চেষ্টা করেন। পরপরই হুমকি ধামকি দিচ্ছিল তিনি। তখন আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐ মানুষটার সাথে একটু বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটায়। গেটের বামপাশের যে পুরোটা দৃশ্য বিভিন্ন ব্যানারে আটকা। ওখানে দেখা যায় না। উনি যখন ব্যানারের ওপাশে লুকিয়ে যায়, নিচ থেকে উনার (কর্মচারীর) পা দেখা যাচ্ছিল। তখন শিক্ষার্থীরা তাকে খুঁজতে গিয়ে ব্যানার বেখেয়ালি সরাতে যায়। ব্যানারগুলো সাধারণত শক্ত রশি দিয়ে টাঙানো না। কর্মচারীকে দেখতে গিয়ে উত্তেজিত অবস্থায় ব্যানারগুলো ছিঁড়ে পড়ে যায়। আমরা কোনো ইনটেনশনালি এই কাজ করতে যাইনি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে গিয়েছি।
তারা আরও বলেন, এটা আমাদের ইনটেনশনালি ছিল না। এটা আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পরে শুনি ওখানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইউট্যাব ইত্যাদি রাজনৈতিক ব্যানার ছিল। ওই ব্যানার কোনটা কোনটা ছিঁড়ে গেছে আমরা সেটাও জানি না। পরবর্তীতে আমরা চেষ্টা করেছি সেগুলো লাগিয়ে দেওয়ার। লাগিয়ে দিয়ে আসছি যতটুকু পারি।