Wednesday 15 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শিক্ষিকা হত্যার বিচার দাবিতে ইবি’র প্রধান ফটকে তালা

ইবি করেসপন্ডেন্ট
১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫১ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫২

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবিতে প্রশাসন ভবন ও প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবন প্রাঙ্গণে সমবেত হয় শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে তালা লাগিয়ে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে। একইসঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও তালা দেয়। এসময় দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেড়ে যাওয়া কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহগামী বাস আটকা পড়ে।

বিজ্ঞাপন

পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা আন্দোলনস্থলে এসে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানালে ও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে ফটকের তালা খুলে দেয় শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরা রুনা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচার, রুনার পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন একটি হল রুনার নামে নামকরণ এবং বিভাগের চলমান সকল সংকট নিরসনের দাবি জানায়।

প্রধান ফটকে তালা দিয়েছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

ইবি থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফজলু এখনও কথা বলতে না পারায় আমরা তার জবানবন্দি নিতে পারিনি। এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ধরতে আমরা একাধিকবার বিভিন্ন লোকেশনে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু তাদের পাওয়া যায়নি, ফোনগুলোও বন্ধ। তারা যাতে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য আমরা প্রতিটি ইমিগ্রেশনে মামলার রেফারেন্সসহ চিঠি দিয়েছি। পাশাপাশি র‍্যাবের মাধ্যমেও তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে তদন্তে যদি কোনো ত্রুটি থাকে, বাদী চাইলে স্পেশালাইজড টিমের কাছে মামলা হস্তান্তরের আবেদন করতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি খুব দ্রুতই তাদের রিপোর্ট পেশ করবে, বিভাগের শিক্ষক সংকট নিরসনের জন্য খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, আসমা সাদিয়া রুনার নামে একটি হলের নামকরণের প্রস্তাব আমি নিজেই করবো, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক মৃত্যুবরণ বা হত্যার পরে আইনানুগভাবে যতটুকুই প্রাপ্য তার জন্য শিক্ষিকার পরিবার আবেদন করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষসহ তা পূরণ করবো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া হলে রুনার স্বামীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর