Tuesday 21 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আমলা নির্ভরতা ও চাঁদাবাজি ছিল হাসিনা সরকারের বড় ভুল: সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সারাবাংলা ডেস্ক
২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫৪ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:১৩

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

ঢাকা: হাসিনা সরকারের নানা ভুল অকপটে স্বীকার করেছেন সাবেক পররাস্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, সরকার সরকারি কর্মচারীর ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ওরা যা বলে তাই। এ সময় তিনি স্বীকার করেছেন জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে যাওয়া ও চাঁদাবাজি এ দুটো বিষয় ছিলো তৎকালীন সরকারের ভুল।

সম্প্রতি যুক্তরাস্ট্র ভিত্তিক টাইম টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।

সাক্ষাৎকারে ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘একজন মন্ত্রী হিসাবে কিংবা পরবর্তীতে এমপি হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ আমাদের সীমিত হয়ে গেল। কারণ সরকারি অফিসাররা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেন, একটা না একটা বাহানা দিয়ে তিনারা সহজে (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেন না। আর আমরা যারা রাজনীতিবিদ, প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে কোনো জায়গায় বড় বক্তৃতা দেন, আমরা দূরে চেয়ারে বসে থাকি, আর উনি সারমন (ধর্মোপদেশের মতো বক্তৃতা) দেন, আমরা এক পাশে থেকে শুনি।

বিজ্ঞাপন

তারপরে যখন উনি বক্তৃতা শেষ করেন, তখন আমাদের রাজনীতিবিদরা ওনার সঙ্গে কথা বলার জন্য সামনে অগ্রসর হলে সেই এসএসএফের লোক ২৫ ফিট দূরে, দূর দূর করে সরায়ে দেয়। ফলে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে কিছু বলা যে, আমরা কিছু ফিল করি, এই চাঁদাবাজি, এই করাপশন, এগুলো পাবলিক কী মনে করতেছে, সেটা বলার সুযোগ আমাদের কমে গেল।’

মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না উল্লেখ করে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সব সময় দেখা করতে পারতাম না। কোভিডের আগে যখন আমরা মন্ত্রী হলাম, তখন প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকদিন ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পরে সব অফিসারদের বের করে দিতেন, সব ইলেক্টেড রাজনীতিবিদদের রাখতেন। তখন উনি বলতেন, আপনাদের কোনো সমস্যা আছে কি না। তখন আমরা নির্দ্বিধায় আমাদের সমস্যাগুলো বলতাম। তখন উনি উত্তর দিতেন, কাউন্টার হতো। আমরাও কাউন্টার করতাম। কিন্তু কোভিডের পরে মিটিং শেষ হওয়ার সঙ্গেই সঙ্গে উনি বের হয়ে যান। আমরা দৌড়ে গিয়ে কিছু কথা যদি বলতে পারি, সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করি। এই একটা ডিসটেনস (দূরত্ব) শুরু হলো। এই ডিসটেন্সটা পরবর্তীতে আর ঘোচানো যায়নি।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরকার ও আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোটা সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকের ধারণা হলো যে, আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে এই কোটা রেশনালাইজ (যৌক্তিক) পরিবর্তন চায়। আমাদের অনেক সহকর্মী এই নাতিফাতি ওগুলোর জন্য কোটা রাখার পক্ষেই না। ছেলে হইছে, আচ্ছা ছেলে-মেয়ের পর্যন্ত রাখছেন ঠিক আছে, এরপরে আর কী? কিন্তু আমরা এটা পরিবর্তন চেয়েছি এবং এইটা নীতিগতভাবে আওয়ামী লীগও এটা গ্রহণ করেছে। কিন্তু কোথায় লইয়াররা কী একটা কেস-ফেস করে, তারপরে আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি।

তখন আমাকে বলা হলো, আমরা যেহেতু আপিল করেছি, কোর্টে এটা রায় দেওয়ার। আমি বললাম, কোর্টের রায় দেওয়ার কেস না, এটা তো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমি তখন আমার ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, বলছিলাম আমেরিকাতে ৪০০ বছর কোর্ট এবং জাজেরা স্লেভারিকে (দাসত্ব) প্রটেক্ট (রক্ষা) করেছে কিন্তু। ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে যখন আব্রাহাম লিংকন ঘোষণা দিলেন, রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত দিলেন যে স্লেভারি ইজ অ্যাবোলিশড, এইটা বাতিল হলো। এরপর কিন্তু কোর্টের কোনো জাজ কোনো কোর্ট স্লেভারিকে প্রটেক্ট করে নাই। সুতরাং ইট ওয়াজ পলিটিক্যাল ডিসিশন। উই শুড টেক পলিটিক্যাল ডিসিশন।’

সিলেট এয়ারপোর্টের কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন- ‘এয়ারপোর্ট হবে তিন বছরে, তিন বছর পার হয়ে গেছে ১০ শতাংশ কাজ হয়নি। এর মূল কারণ হচ্ছে আপনার দুর্নীতি। এরা দেরি করলে পরে ওটার পয়সা বাড়ে, তখন ওটা পয়সা যা অধিকত দেয়া হয় ৮০ শতাংশ খেয়ে ফেলে। সুতরাং তাদের চিহ্নিত করে আপনার আমি বলেছিলাম যে পিডি হবে যে সে যদি অনটাইম প্রজেক্ট শেষ না করে তার ডিমোশন হবে, চাকরি যাবে যদি রিজনেবল গ্রাউন্ড না থাকে। এইগুলো কয়েকটা এক্সাম্পল।’

মোমেন বলেন- ‘কোটা সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকের ধারণা হলো যে আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে এই কোটা রেশনালাইজেশনে পরিবর্তন চায়। আমাদের অনেক সহকর্মীরা এই নাতি-ফাতি ওগুলোর জন্য কোটা রাখার কোন পক্ষেই না।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মোমেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

ওই মেয়াদে আব্দুল মোমেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। তিনি পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনও করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ নির্বাচনেও আব্দুল মোমেন সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হলেও তাকে আর মন্ত্রী করা হয়নি। তবে সংসদ সদস্য হিসেবেও বেশিদিন থাকতে পারেননি সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের হলে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করলে অন্যদের আব্দুল মোমেনও সংসদ সদস্য পদ হারান।

আওয়ামী লীগের পতনের পর শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি আমলাসহ অনেকেই বিদেশে পালিয়ে যান। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনও সেই তালিকার একজন। দেশ থেকে পালিয়ে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

সারাবাংলা/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর