Tuesday 21 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

টেকনাফের পাহাড় থেকে ৩ যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০৭ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫৩

কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তিন যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- উত্তর শিলখালী গ্রামের নুরুল বশর (২৮), রবি আলম (২৩) ও মুজিবুর রহমান (৩৫)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের ভেতরে অবস্থানরত এই তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাদের মাথায় মাটি কাটার কোদাল দিয়ে আঘাত করা হয়। হত্যার পর লাশগুলো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রেখে যায়।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে মুজিবুর রহমানের ছোট ভাই মোর্শেদ রবি আলমকে ডেকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যান। এরপর রাতভর তারা ওই এলাকায় অবস্থান করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনজনই একই স্থানে ছিলেন এবং একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে মোর্শেদ অন্যত্র ছিলেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মোর্শেদ ঘটনাস্থলে এসে তার ভাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে শামলাপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ব্যক্তি তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ বাড়িতে রেখে মোর্শেদ আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে।

নিহত রবি আলমের বাবা রুহুল আমিন বলেন, “রাতে মুজিব আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে খবর পেয়ে পাহাড়ে গিয়ে দেখি, আমার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কী কারণে এমন হলো, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কাঠুরিয়া জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ওই পাহাড়ি এলাকায় অচেনা লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। অনেক সময় লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনাও ঘটছে। মাঝেমধ্যে গভীর রাতে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, জিম্মি করে রাখার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের দৌরাত্ম্যে অন্তত কয়েক হাজার মানুষ চরম আতঙ্কে বসবাস করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়লেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এসব চক্রের তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, “পাহাড় থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, অপহরণ ও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।”

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পাহাড় থেকে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহরণ ও মানবপাচারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। অপর একটি মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কোদাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে নিহতদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথা জানা গেছে। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে কাজ চলছে।

সারাবাংলা/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর