ঢাকা: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় কমিটির এক প্রস্তুতিমূলক সভায় কবিদ্বয়ের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, আগামী ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ অর্থাৎ ৮ মে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর মূল আয়োজন কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুর, পতিসর, দক্ষিণডিহি ও পিঠাভোগে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় রবীন্দ্র মেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। একইসঙ্গে এই দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ করা হবে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে কবির চিত্রশিল্পের প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।
অন্যদিকে, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ অর্থাৎ ২৫ মে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীর জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠান ত্রিশালে অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ত্রিশালের পাশাপাশি দৌলতপুর, তেওতা, কার্পাসডাঙ্গা এবং চট্টগ্রামে স্থানীয় উদ্যোগে নজরুল মেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে কবি নজরুলের জীবন ও কর্মকে তুলে ধরার লক্ষ্যে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট এবং গণগ্রন্থাগার অধিদফতর বিশেষ বই ও ছবি প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশব্যাপী এই উদযাপনের অংশ হিসেবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উভয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। জাতীয় পর্যায়ের এসব অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ ছাড়াও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে। সরকারি এই কর্মসূচির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।