চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সভা ও মিছিলের ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। মামলায় ৮০ থেকে ৯০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলায় এরই মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সাবেক মেয়রসহ বাকিদের পলাতক দেখানো হয়েছে। গ্রেফতাররা হলেন পূর্ব সুয়াবিল এলাকার মো. জামান বাবু (২৩) ও সাইফুল ইসলাম সজিব (২৫) ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে,গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার রোসাঙ্গিরী ইউনিয়নের আজিমনগর এলাকার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্রামাগারে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সমাবেশের ঘটনা ঘটে। নেতা-কর্মীরা মশাল হাতে একটি মিছিল বের করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা মশাল ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় তারা জড়ো হন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা জানিয়েছেন। তারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে চারটি বাঁশের তৈরি মশাল জব্দ করা হয়।
ওই আস্তানাটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের মালিকানাধীন থাকলেও তিনি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন না। আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরও আছেন সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, বখতিয়ার সাঈদ ইরান, সাবরিনা চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। সাবেক মেয়রকে ৩ নম্বর আসামি করেছে পুলিশ।
মামলার বাদী ও ফটিকছড়ি থানার এসআই জামাল হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও ফটিকছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ পলাতক অন্য আসামিদের নাম এসেছে। তাঁদের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে এই মিছিল আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে গ্রেপ্তারকৃতরা। তাই তাদের আসামি করা হয়েছে।’