ঢাকা: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন ৮টি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষ্যে সারাদেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮টি ও ছাগল ও ভেড়া ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩টি। এ ছাড়া অন্যান্য পশু রয়েছে ১ হাজার ২৭টি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
দেশব্যাপী কোরবানি হওয়া গবাদিপশুর প্রাথমিক হিসাব এবং সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন ৮টি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট জবাইকৃত বা কোরবানিকৃত পশুর সংখ্যা ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮টি, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩টি এবং অন্যান্য পশু ১ হাজার ২৭টি।
বিভাগভিত্তিক কোরবানির চিত্র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে এবার সর্বাধিক ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫টি গরু ও মহিষ, ৯ লাখ ৮২ হাজার ১০৭টি ছাগল ও ভেড়া এবং ৫৫৪টি অন্যান্য পশু। গরু ও মহিষ কোরবানির ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগ দেশের শীর্ষে রয়েছে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কোরবানি হয়েছে রাজশাহী বিভাগে, যার সংখ্যা ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১২১টি, ছাগল ও ভেড়া ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৬টি এবং অন্যান্য পশু ৪২টি। ছাগল ও ভেড়া কোরবানির ক্ষেত্রে রাজশাহী বিভাগ দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু। যার মধ্যে গরু ও মহিষ ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬৭২টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ১৪ হাজার ১৯২টি এবং অন্যান্য পশু ১৬১টি।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি, রংপুরে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি, বরিশালে ৪ লাখ ১৬০টি, ময়মনসিংহে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি এবং সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু কোরবানি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির যোগ্য পশুর মোট চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা বা জোগান ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। ফলে কোরবানি শেষে দেশে এবার ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
গত বছর (২০২৫ সাল) কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২০টি এবং প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। গত বছর দেশে মোট ৯১ লাখ ৩৬ হাজারটি পশু কোরবানি হয়েছিল এবং উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৭টি পশু। সেই তুলনায় গত বছরের চেয়ে এবার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮টি বেশি পশু কোরবানি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমেই এ বছরও কোরবানির শতভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের সময়োপযোগী নীতি, সহায়তা, খামারিদের কঠোর পরিশ্রম ও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের কারণে প্রাণিসম্পদ খাত আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ও খামারি বান্ধব নীতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।