Thursday 04 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে জখম: আরও ২ পুলিশ প্রত্যাহার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ জুন ২০২৬ ১৫:৪৫ | আপডেট: ৪ জুন ২০২৬ ১৫:৪৬

অভিযুক্ত ওসি আজাদ।

রংপুর: রংপুর মহানগরের কোতোয়ালী থানায় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে আটক রেখে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় জড়িত থাকায় আরও দুই পুলিশ সদস্যকে ‘প্রত্যাহার’ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ওসি আজাদ রহমান, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা ও এসআই মাসুদ রানাকে ক্লোজড দেখানো হয়েছে।

এর আগে থানার আরও দুই কনস্টেবল লিমা সরেন ও বাসুদেবকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম রাকিব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব।

বিজ্ঞাপন

মারধরের শিকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব দাবি করেছেন, ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে তাকে পিটিয়ে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হয়। তাদের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে, ওই যুগলকে উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় থানায় আনা হয়। পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। দলের লাভলু নামে এক নেতার ডাকেই সেখানে যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

থানায় গিয়ে রাকিব দেখতে পান, এক পুলিশ সদস্য ওই প্রেমিক যুগলকে মারধর করছেন। তিনি আপত্তি জানালে ওসি আজাদ রহমান ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন।

রাকিবের অভিযোগ, ঘটনা দলের নেতাকে জানাতে ফোন বের করলে ওসি, এসআই ও অন্যান্য পুলিশ তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি রক্তাক্ত ও আহত হন, একটি চোখ ফুলে যায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে রাইফেলের বাট দিয়ে পেটানো হয়েছে এবং দুটি ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে শরীরের রক্ত ধুইয়ে দেন।

সাংবাদিকদের সামনে রক্তমাখা তুলা ও শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখান রাকিব। তিনি বলেন, “আমার নামে ১৩টি মামলা আছে, ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার। পুলিশের চরিত্র এখনো ফ্যাসিবাদীদের মতো। আমি বিচার চাই।”

খবর পেয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হলে একপর্যায়ে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। গেটের ভেতর থেকেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিব।

প্রত্যক্ষদর্শী হরিদেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রাকিবকে পুলিশ ধরে মারলো, ওই প্রেমিক যুগলকে মারধর করতে নিষেধ করায় এ ঘটনা ঘটেছে।”

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু ঘটনাস্থলে এলে তিনি নেতাকর্মীদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলার নির্দেশ দেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বিরূপ আচরণের চেষ্টা করেন। পরে রাকিবকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং রাত ১১টায় ওই প্রেমিক যুগলকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, “পোশাক বদলেছে, কিন্তু পুলিশের চরিত্র বদলায়নি। তাদের রক্তে এখনো স্বৈরাচারী গন্ধ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আমরা থানা ঘেরাও করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব।”

থানার ওসি আজাদ রহমান মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি হয়, আমরা তাদের থামিয়েছি।” আহত নেতার শরীরে রক্তের দাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক সময় আম ছিলতে গিয়েও তো রক্ত বের হয়।”

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, “অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন– ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা, সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানা।

পাশাপাশি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা সভাপতি, ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং এসি কোতোয়ালি সুকুমার রায় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। কমিটিকে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর