Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআইভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ আগস্ট ২০২৬ ১৪:৪৭

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঢাকা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আদায়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু হয়েছে। মহাসড়কের ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় স্থাপন করা ১ হাজার ৪২৭টি এআই ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতিসীমা লঙ্ঘন, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট হাইওয়ে মনিটরিং সেন্টারে এ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। হাইওয়ে পুলিশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে আজকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করা হবে।’

মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা—তা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে জমা থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।’

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়কের উভয়পাশে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ক্যামেরাগুলোর মধ্যে রয়েছে বুলেট, পিটিজেড ডোম, লং ভিশন ও এআই চেকপয়েন্ট ক্যামেরা। এগুলো স্থাপনের জন্য ৪৯০টি পোল বসানো হয়েছে।

অটো ফাইন সিস্টেমে কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে তা শনাক্ত হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচলের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না এবং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।’

তবে স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শৃঙ্খলার সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, স্বয়ংক্রিয় এ ব্যবস্থার ফলে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের সময় পুলিশের সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ কমবে। এতে আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি দুর্নীতির সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ দ্রুত সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এআই ক্যামেরাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ডেটা সেন্টার ও পাঁচটি মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাটে একটি ডেটা সেন্টার রয়েছে। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশ সদর দফতর, কাঁচপুর হাইওয়ে থানা, হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপারের কার্যালয়, দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা ও বারআউলিয়া হাইওয়ে থানায় পাঁচটি মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের দাবি, মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়ানো, যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের দাবি, উপমহাদেশে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় প্রসিকিউশন ব্যবস্থা এই প্রথম চালু হলো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর