Thursday 23 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাধাচূড়ার রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৮

কুমিল্লা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা অংশ এখন শুধু দেশের অন্যতম ব্যস্ত যোগাযোগপথ নয়, যেন এক জীবন্ত ফুলের গ্যালারি। সড়কের দু’পাশজুড়ে সারি সারি ফুটে থাকা গোলাপি রাধাচূড়া ফুল পথচারী, যাত্রী ও ভ্রমণপিপাসুদের উপহার দিচ্ছে এক অনন্য সৌন্দর্যের অনুভূতি।

প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের ব্যস্ত চলাচলের মাঝেও প্রকৃতি যেন নিজের হাতে সাজিয়ে তুলেছে এই মহাসড়কের এক বিশেষ অংশ। বৈশাখের মৃদু হাওয়ায় দুলতে থাকা রাধাচূড়ার গোলাপি ফুলে ঢেকে গেছে রাস্তার দুই ধারের গাছগুলো। সূর্যের কোমল আলো পাপড়িতে পড়লে পুরো পরিবেশই হয়ে ওঠে আরও মোহনীয় ও স্বপ্নময়।

রাধাচূড়া ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Caesalpinia pulcherrima। এটি Fabaceae (সীম গোত্রীয়) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি দৃষ্টিনন্দন সপুষ্পক উদ্ভিদ। উজ্জ্বল রঙ, নান্দনিক সৌন্দর্য এবং দীর্ঘসময় ধরে ফোটে থাকার কারণে এই ফুল সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ হিসেবে বেশ জনপ্রিয়।

বিজ্ঞাপন

চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে চোখে পড়া এই ফুলেল দৃশ্য মুহূর্তেই মন ভরে দেয় যাত্রীদের। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসছেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। যেন এই পথ শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর নয়, কিছু সময় থেমে প্রকৃতিকে অনুভব করারও।

মোটরসাইকেল আরোহী হাবীব ও মানিক বলেন, ‘এমন সুন্দর দৃশ্য আগে বিদেশের ছবিতে দেখতাম, এখন নিজের দেশেই দেখতে পাচ্ছি। এটা সত্যিই গর্বের বিষয়।’

স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও অনেকে ছুটে আসছেন এই ফুলেল সৌন্দর্য দেখতে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে মহাসড়কের এ অংশে মানুষের ভিড় বাড়তে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে রাধাচূড়ায় মোড়া কুমিল্লার এই পথের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিকল্পিতভাবে এমন সবুজায়ন যদি পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কজুড়ে বিস্তৃত করা যায়, তবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি হয়ে উঠতে পারে আরও দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব। এতে যেমন সৌন্দর্য বাড়বে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, নিয়মিত পরিচর্যা, গাছের সুরক্ষা এবং পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এই সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

প্রকৃতিপ্রেমি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মানিক বলেন, ‘প্রকৃতি যখন এভাবে নিজেকে মেলে ধরে, তখন মানুষের মনও ভালো হয়ে যায়। এমন দৃশ্য সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব। যাত্রা পথে যাত্রীরা যখন ক্লান্ত হয়ে পরে, এমন দৃশ্য চোখে দেখার সাথে সাথেই মন ভালো হয়ে যায়, ক্লান্তি দূর হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ গাছগুলো যে শুধু সৌন্দর্য বর্ধন করে তা নয়। এ গাছগুলো ডিভাইডারে থাকার কারনে বিশেষ করে রাতের বেলায় একপাশের গাড়ীর হেডলাইটের আলো অন্যপাশে কম যায়। আর এতে দূর্ঘটনাও কম হয়। তবে এ গাছগুলোকে পরিচর্যা করলে আরও বেশি ভালো হতো। কারন পরিচর্যার অভাবে অনেক জায়গায় গাছ মরে গেছে এবং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে একটু সময় নিয়ে কেউ যদি এই পথে থামেন, তবে বুঝবেন—এ সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখার নয়, হৃদয়ে অনুভব করারও। কুমিল্লার চান্দিনায় রাধাচূড়ার এই রঙিন সাজ যেন জানান দিচ্ছে, প্রকৃতি এখনও তার সৌন্দর্যে মানুষকে মুগ্ধ করতে জানে।