Sunday 09 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অভাবে মাথার চুল বিক্রি করা সেই রেহানার পাশে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ আগস্ট ২০২৬ ২৩:২৭ | আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৩:২৮

বাগেরহাট: অভাবের তাড়নায় মাথার চুল কেটে বিক্রি করা বাগেরহাটের রামপালের সেই অসহায় নারী রেহানা খাতুনের পাশে দাঁড়িয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

প্রতিমন্ত্রী নির্দেশনায় রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না ফেরদৌসী রেহানা খাতুনের কাছে যান।

জানা যায়, চরম দারিদ্র্যের কারণে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে এবং ঘরভাড়ার বকেয়া মাত্র ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়ে নিজের মাথার চুল বিক্রি করেন রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এক অসহায় নারী রেহানা খাতুন। স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী পরে দুই সন্তানকে নিয়ে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। তার এই মর্মান্তিক জীবনযাপনের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি জানার পরপরই প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জোরালো নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এসব সহযোগিতা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না ফেরদৌসি জানান, জেলা প্রশাসন ও প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রেহানা খাতুনকে গৌরম্ভা আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সঙ্গে খাবার ও অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি অনুদান ও সহায়তা পেয়ে রেহানা খাতুন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, অনুদান পেয়ে তিনি খুবই খুশি। প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে এখন তিনি কিছুটা ভালোভাবে চলতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রীর এমন দ্রুত পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের কষ্টে থাকা রেহানা খাতুন ও তার দুই অবুঝ সন্তানের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না ফেরদৌসি, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা অপু রায়হানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রতিমন্ত্রীর এই দ্রুত ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী বলেছেন, সরকারের এই ধরনের সময়োপযোগী সহায়তা সমাজের চরম অসহায় মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জাগায় এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে।