Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

হাতিয়ায় টানা বৃষ্টিতে কৃষিখাতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ জুলাই ২০২৬ ১২:২১ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১৪:২২

টানা বৃষ্টিতে সবজি বাগানে জলাবদ্ধতা।

নোয়াখালী: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার কৃষকের ২৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এ উপজেলার কৃষিখাতে ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, আমন বীজতলা, মৌসুমি শাকসবজি, ফল, মরিচ ও পানের বরজ। পানি কমে যাওয়ার পর অনেক সবজি গাছ মরে যাচ্ছে এবং নুয়ে পড়ছে বীজতলার চারা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

চরকিং ইউনিয়নের চরকৈলাশ গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়া নলচিরা প্রধান সড়কের পাশে ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলা পরিচর্যা করছিলেন। তিনি জানান, বৃষ্টি শুরুর ১০ দিন আগে ৬০ কেজি আমনের বীজ বপন করেন তিনি। কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তার বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। পরে বীজতলার চারপাশে উঁচু বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। পানি শুকানোর সঙ্গে সঙ্গে ধানের চারা নুয়ে পড়ে। অনেকটা আশা ছেড়ে দিয়ে পুনরায় বীজ বপনের চিন্তা করছেন তিনি। এতে তার ধান চাষ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুধু ফরিদ মিয়ার বীজতলা নয়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের একই অবস্থা। সবজি চাষের জন্য পরিচিত চরকিং ও চরঈশ্বর ইউনিয়নের অধিকাংশ সবজিখেতও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর গাছের গোড়ায় পচন ধরে অনেক সবজি গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামের কৃষকেরা সারাবছর সবজি চাষ করেন। ওই এলাকার কৃষক খোকন প্রায় এক একর জমিতে ঝিঙা চাষ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে গাছের গোড়া পচে যাওয়ায় তিনি খেত থেকে গাছ তুলে ফেলছেন।

খোকন জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই সবজি চাষাবাদ করেছেন। তাতে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে সবজি বিক্রি করে এক টাকাও আয় করতে পারেননি।

হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাসেদ সবুজ বলেন, ‘উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পরবর্তী করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। এরইমধ্যে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি প্রতিবেদন জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর