Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কবলে ভোলার কয়েক হাজার মানুষ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ জুলাই ২০২৬ ১৮:৫২

ভোলায় জলাবদ্ধতায় বিপাকে হাজারো মানুষ

ভোলা: গত ৫ দিন ধরে কখনো গুঁড়িগুঁড়ি, হালকা, মাঝারি আবার কখনো ভারী বৃষ্টিপাতের কবলে রয়েছে উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলা। টানা বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে, এতে দুর্ভোগে রয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের ৪ ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বৃষ্টির পানিতে পানিবন্দি হয়ে আছে। এছাড়া মনপুরা ইউনিয়নের ২ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে রান্না ও ঘরের মেঝেতে পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।

বিজ্ঞাপন

ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মামুন, ফরিদসহ কয়েকজন জানান, ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিসিক শিল্পনগরীর চরনাপ্তা এলাকার কালভার্ট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানির কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার।

মনপুরা হাজিরহাটের স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলামিন, হাসনাইন, সোহাগ ও তুহিন বলেন, ‘গত ৫ দিনের টানা বৃষ্টিতে আমাদের বসতবাড়ির আশেপাশে পানি জমতে শুরু করে শেষমেষ আমাদের বসতঘরের মেঝেও ডুবে গেছে। কেউ খোঁজ নিতে আসেনি, আমরা গরিব মানুষ, একদিন কাজে যেতে না পারলে পেটে ভাত জোটেনা, বৃষ্টির কারণে কাজেও যেতে পারছিনা।‘

তারা আরও বলেন, ‘মূলত স্বাভাবিকভাবে পানি নেমে যাওয়ার পথগুলো প্রভাবশালীরা দখল করে রাখায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে আমাদের বসতঘরের রান্না চুলা ডুবে যাওয়ায় রান্নাও হচ্ছে না। এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।’

ভোলা সদর উপজেলার রিকশা চালক মো. সোহাগ ও নাছির বলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তায় যাত্রীদের সংখ্যা কম। আগে যেখানে দৈনিক আয় করতাম ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা, এখন সেখানে আমাদের রোজকারের আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।’

তবে জলাবদ্ধতা আমনের বীজতলা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। মো. হেলাল পাটোয়ারী ও জাহাঙ্গীর বলেন, ‘গত ৪ তারিখে আবহাওয়া ভালো দেখে ৩-৫ শতাংশ জমিতে আমনের বীজতলায় বীজ বপন করেছি। যেভাবে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সেজন্য মনে হচ্ছে না বীজতলা টিকবে।’

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু মুছা বলেন, ‘যেসব জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে তা চিহ্নিত করে পানি নিষ্কাশনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে।’

মনপুরা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক মাকসুদুর রহমান বলেন, গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মনপুরায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত চলছে, কখনো গুড়িগুড়ি কখনো হালকা আবার কখনো ভারী। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর