Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাইক সার্ভিসিংয়ের সময় এই ভুলগুলো করছেন না তো?

সারাবাংলা ডেস্ক
৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩৩

শখের মোটরবাইকটি থেকে দীর্ঘদিন সেরা পারফরম্যান্স পেতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত ও সঠিক সার্ভিসিং। অনেকে মনে করেন সার্ভিসিং মানে কেবল বাইকটি ভালো করে ধুয়ে নেওয়া, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মূলত পুরো যান্ত্রিক অংশের চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণই হলো আসল সার্ভিসিং। সার্ভিসিংয়ের সময় বাইক মালিকেরা কিছু সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুল করে থাকেন। এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললে বাইকের আয়ু এবং পারফরম্যান্স দুই-ই এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যায়।

আসুন জেনে নেই বাইক সার্ভিসিংয়ের সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে যাবেন…

সময়মতো সার্ভিসিং না করা (শিডিউল মিস করা)

বাইক কেনার পর ইউজার ম্যানুয়ালে নির্দিষ্ট কিলোমিটার বা সময় অনুযায়ী সার্ভিসিংয়ের ডেট দেওয়া থাকে। অনেকে অলসতা করে নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও সার্ভিসিং করান না। এর ফলে মবিল নষ্ট হয়ে যায়, ফিল্টার জ্যাম হয় এবং ইঞ্জিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

বিজ্ঞাপন

পরামর্শ: ম্যানুয়াল বুক মেনে অথবা প্রতি ২,০০০ থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার পর পর নিয়মিত সার্ভিসিং করানো উচিত।

ইঞ্জিন অয়েল (মবিল) পরিবর্তনে অবহেলা

‘অয়েল তো দেখতে এখনো ভালোই আছে’, এমনটা ভেবে অনেকে মবিল পরিবর্তন করতে দেরি করেন। কিন্তু পুরনো ও সান্দ্রতা (Viscosity) হারিয়ে ফেলা অয়েল ইঞ্জিনের ভেতরের যন্ত্রাংশগুলোকে দ্রুত ক্ষয় করে ফেলে। এতে ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বাড়ে এবং ফুয়েল খরচ বা মাইলেজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খরচ বাঁচাতে নকল বা সস্তা যন্ত্রাংশ ব্যবহার

সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে অনেকেই লোকাল মার্কেট থেকে সস্তা বা নন-ব্র্যান্ডের পার্টস কেনেন। এই নকল যন্ত্রাংশগুলো কেবল দ্রুত নষ্টই হয় না, বরং বাইকের অন্যান্য ভালো পার্টসকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

পরামর্শ: সবসময় অনুমোদিত ডিলার বা বিশ্বস্ত শপ থেকে জেনুইন (আসল) পার্টস ব্যবহার করুন।

চেইন ও ব্রেক রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি

ড্রাইভ চেইনে নিয়মিত লুব্রিকেন্ট না দেওয়া কিংবা ক্ষয়ে যাওয়া ব্রেক প্যাড অবহেলা করা—দুটোই অত্যন্ত বিপজ্জনক ভুল। চেইন শুকিয়ে গেলে বাইক থেকে বাজে শব্দ হয় এবং চেইন ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে দুর্বল ব্রেক যেকোনো মুহূর্তে রাইডারের জীবন বিপন্ন করতে পারে।

পরামর্শ: প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার চেইন পরিষ্কার করে লুব দিন এবং প্রতিটি সার্ভিসের সময় ব্রেক প্যাড ও ব্রেক অয়েলের লেভেল চেক করুন।

এয়ার ফিল্টার ও কুলিং সিস্টেমকে গুরুত্ব না দেওয়া

এয়ার ফিল্টার জ্যাম হয়ে গেলে ইঞ্জিন পর্যাপ্ত বাতাস পায় না, যা সরাসরি মাইলেজ কমিয়ে দেয়। আবার লিকুইড কুল্ড ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে কুল্যান্ট (Coolant) লেভেল কমে গেলে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম (Overheat) হয়ে লক হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিটি সার্ভিসের সময় এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার/বদলানো এবং কুল্যান্ট টপ-আপ করা জরুরি।

ব্যাটারি ও ইলেকট্রিক লাইন এড়িয়ে যাওয়া

সার্ভিসিংয়ের সময় মেকানিকরা অনেক সময়ই ব্যাটারি এবং ভেতরের ওয়্যারিং চেক করেন না। এর ফলে কিছুদিন পর হঠাৎ হেডলাইট দুর্বল হওয়া, হর্ন ঠিকমতো না বাজা কিংবা সেলফ-স্টার্ট কাজ না করার মতো ঝামেলা পোহাতে হয়।

উল্লেখ্য, মোটরসাইকেল কেবল একটি পরিবহনের মাধ্যম নয়, এটি আপনার প্রতিদিনের নিরাপদ পথচলার ভরসা। তাই সার্ভিসিংয়ের সময় মেকানিকের ওপর পুরো ভরসা না করে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই ছোটখাটো ভুলগুলো শুধরে নিন। সঠিক যত্নে আপনার বাইকটি থাকবে দীর্ঘস্থায়ী, নিরাপদ এবং নতুনের মতো পারফেক্ট।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি