Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১৫

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
৯ জুলাই ২০২৬ ২২:১৫ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২৬ ২২:১৮

সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্য।

‎‎বরিশাল: জেলার আগৈলঝাড়ায় চোর সন্দেহে আটক যুবককে পিটিয়ে হত্যার গুজবে থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।

‎জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পরলে তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করেন। এসময়ে পুলিশ বাধা দিতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ বিতান্ড বাক বাকবিতণ্ডা ও পরবর্তীতে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিজ্ঞাপন

‎থানার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, ‘সবুজ টি-শার্ট পরিহিত রিয়াজ ফকির গারদে প্রবেশ করে। গারদের লোহার গেটের সঙ্গে নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।’

‎একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে রিয়াজের জ্ঞান ফিরে না আসায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় হলেও রিয়াজ ফকিরের জ্ঞান না ফেরায় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরলে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার শতাধিক লোকজন বৃহস্পতিবার বিকেলে মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা করে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে মারধর করে।

একপর্যায়ে পুলিশও বাঁশ ও লাঠি নিয়ে মিছিলকারীদের ওপর হামলা করলে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও মিছিলকারীদের হামলায় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিম, কনস্টেবল ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ডিউটি অফিসারকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিয়াজের বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

‎রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম জানান, আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। যার জন্য গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

‎আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে আটক করা হয়েছে। সে জেলখানায় বসে বুধবার রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যার কারণে পরিকল্পিতভাবে রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে। এ সময় থানা ভাঙচুর ও পুলিশের পাঁচ সদস্যকে মারধর করা হয়। হামলাকারীদের ঠেকাতে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১০ নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন।

‎এদিকে যার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে তিনি শেবাচিম হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন বলে ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিবুল হাসান শান্ত জানিয়েছেন। ‎তিনি জানান, ‘আহত রিয়াজের মেজর কোনো ইনজুরি নেই। তবে মাথায় আঘাত রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর